জেনে নিন একজন ভালো ছাত্র হয়ে ওঠার হওয়ার সহজ উপায়
![]() |
| জেনে নিন একজন ভালো ছাত্র হয়ে ওঠার হওয়ার সহজ উপায় |
ক্লাস চলাকালে আমরা প্রায়ই শ্রেণিকক্ষে অমনোযোগী হয়ে পড়ি। আর যদি পুরোটাই অমনোযোগী থাকি তাহলে তো কথাই নেই।
মাঝে মাঝে ঘুমও পড়ি। শিক্ষকের কথা কখনো কখনো শুনতে পাই না।
ফলে শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন তা আর আমাদের বোধগম্য হয় না।
পরীক্ষার আগ পর্যন্ত বইগুলো বাজারেই থেকে থেকে যায় যেন, অনেক বই একদম নতুন রয়ে যায় ।
আমার কথাগুলো নিশ্চয়ই অনেকের সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে।
যেহেতু শ্রেণিকক্ষে আমরা মনোযোগ দিতে পারছি না, পড়াগুলো আবার নিজে নিজে পড়তে হয়। নিজে নিজেই যদি সবকিছু পড়া যেত তাহলে কখনোই বিদ্যালয়ে
যাওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। বাজার থেকে বই কিনে নিয়ে সরাসরি পরীক্ষায় বসে যাওয়ার পদ্ধতি থাকত।
শিক্ষকের কথায় মনোযোগ দিতে পারছি না, নিজে পড়েও কিছু বুঝতে পারছি না,দ্বারস্থ হচ্ছি দ্বিতীয় বিদ্যালয়—কোচিং সেন্টার বা বহু ছাত্রবিশিষ্ট প্রাইভেট সেন্টারের।
মুখস্থ বিদ্যার কুফল নিয়ে নাই বা বললাম। আসি
কোচিং সেন্টারের কথায়। কোচিং সেন্টারগুলো যেহেতু অনেক টাকার বিনিময়ে তাদের শিকার ধরে, তাই সেখানে নিজ দায়িত্বে লেখাপড়াটা
কিলিয়ে গিলিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়। সেখানেও যারা অমনোযোগী থাকে তাদের তৃতীয় বিদ্যালয় বাসার শিক্ষকের সম্মুখীন হতে হয়।
সেখানেও মনোযোগের অভাব হলে ফলাফলের জায়গাটা বেশ ফাঁকাই পড়ে থাকে। অবশেষে নাম ঢুকে যায় খারাপ ছাত্রের তালিকায়।
আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকের মেধা সমান। প্রত্যেকেই যোগ্যতা রাখে তথাকথিত ভালো ছাত্র হওয়ার। তাহলে এর সমাধান কি?
বিভিন্ন ধরনের বিদ্যালয়ের যে ধাপগুলো এখানে বললাম তার পেছনের অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অমনোযোগিতা।
ব্যাপারটা এখন এতটাই গুরুতর যে, কোচিং সেন্টার ও বাসায় শিক্ষক থাকার ফলে বাচ্চারা এখন আর শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দেওয়ার
প্রয়োজনীয়তাই মনে করে না।
এতে যে বাচ্চাদেরই শুধু ক্ষতি হচ্ছে তাই নয়, অপমানবোধে ভোগেন অনেক শিক্ষকও।
অথচ শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিলে সময় ও অর্থ নষ্টকারী দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিদ্যালয়গুলোর দ্বারস্থ হতে হয় না আমাদের।
অমনোযোগের প্রধান কারণ হচ্ছে পেছনের দিকে বসা।
পেছনে বসার ফলে অনেকের আড়ালে থেকে থেকে ফুল–পাখি–লতা পাতা
দেখা ও আঁকার মতো আরও অনেক অপ্রাসঙ্গিক কাজ করে থাকে।
ফলস্বরূপ দিন দিন পিছিয়ে পড়তে হয়। গড়ে উঠে ফার্স্ট বেঞ্চ-লাস্ট বেঞ্চ বৈষম্য।
মনোযোগ বাড়ানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে তাই সামনের সারিতে বসা। বিশ্বাস হচ্ছে না? একদিন বসে দেখো, টনিকের মতো কাজ করবে।
বলতেই পারো,
সবাই যদি প্রথমে বসতে চায় তাহলে জায়গা হবে কেমন করে? তাদের জন্য বলছি, সবাই কি আমার কথাগুলো পড়বে? যদিও বা পড়ে,
বিশ্বাস করবে? করবে না। তো, কাল থেকে প্রথম সারির প্রথম সিট টা তোমার। আজ যদি তুমি মাঝারি বা শেষের সারির ছাত্র হয়ে থাকো,
কাল থেকে ভালো ছাত্রের তকমাটা অপেক্ষা করবে তোমার জন্য।
